মধুবাগ তিন নম্বর গলি

মধুবাগ তিন নম্বর গলি

আজ কথা বলবো রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা মগবাজার মধুবাগ এর তিন নম্বর গলি বলে পরিচিত গলিটির সম্পর্কে। তিন নম্বর গলির একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে ঐ গলির চায়ের দোকান গুলো এবং রিক্সা ও সি এন জি এর গ্র্যারেজ গুলো। গলিটিতে রয়েছে বসত বাড়ি যা অধিকাংশ টিনের কিছু সেমি পাকা ও হাতে গোনা কয়েকটি বিল্ডিং।

রয়েছে কয়েকটি ঔষধ এর দোকান, কয়েকটি খাবার হোটেল,একটি পানি বিশুদ্ধকরণ পাম্প,গলির ভিতরে রয়েছে আওয়ামী লীগের যুবলীগ এর অস্থায়ী কার্যালয় ও একটি সমিতি অফিস। গলিটির বাসিন্দা অধিকাংশ নিম্নবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ।যদি আমরা গলিটির দৈর্ঘ্য অনুমান করি তাহলে তা প্রায় অর্ধ কিলোমিটার এর বেশি হবে না।

এই অর্ধ কিলোমিটার গলিতে রয়েছে প্রায় অর্ধশতাধিক চায়ের দোকান ও মিলিয়ে শতাধিক এর চেয়েও বেশি রিক্সা ও সি এন জি এর গ্র্যারেজ।গলিটিতে বসবাস করা অধিকাংশ বাসিন্দা নিম্ন আয়ের রিক্সা চালক যারা ভাসমান এবং তারা তাদের পরিবার নিয়ে বসবাস করেন যাযাবর এর মতন তাদের অধিকাংশই আসে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল থেকে জীবিকার সন্ধানে।

গলিটির ভালো দিকের চেয়ে খারাপ দিক বেশি এক কথায় যদি বলা হয় তাহলে এই গলিতে কোন শিক্ষিত সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ বসবাস করতে পারে না। এখানে বাসস্থানে বসবাসের পরিবেশ নেই বললেই চলে নোংরা পরিবেশে যেন মানিয়ে নিয়েছে তারা। এই গলিতে অবৈধ অসামাজিক কার্যকলাপে ভরপুর। এমন কোন অপরাধ নেই যা এই গলিতে সংঘটিত হয় না।

এই গলির ভিতরের দিকে চায়ের দোকান গুলো তে চলে রমরমা জুয়া বানিজ্য। রাত যত গভীর তা যেন তত প্রানবন্ত হয়ে ওঠে।থানা থেকে রাত বারোটার পর চায়ের দোকান গুলো বন্ধের নির্দেশ থাকলেও তা মানছেন না চা দোকানিরা। তারা রাতে দোকান খোলা রাখার জন্য প্রতিদিন রাতে টহলরত ডিউটি পুলিশ অফিসারদের দিচ্ছে দোকান প্রতি ৫০ থেকে ১০০ টাকা চাঁদা যা সংগ্রহ করে ঐ গলির শাহীন নামে একজন চা দোকানদার  চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে সেদিন সেই চা দোকানদারকে বিনা কারণে আটক করে বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করা হয় এবং ছেড়ে দেওয়ার কথা বলে মোটা টাকা দাবি করেন পুলিশ সদস্যরা।

গলির চা দোকানিদের থানার নির্দেশ সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা বলেন এমন কোন নির্দেশ বা নোটিশ থানা থেকে তারা পাননি রাত বারোটার পর পুলিশ তাদের দোকান করতে দেয় না ঝামেলা করেন। সে ঝামেলা যেন তারা না করে তার জন্য তাদের চাঁদা দেওয়া হয়।

গলিতে রয়েছে কয়েক জন বেপরোয়া সুদ ব্যাবসায়ী যারা নিম্ন আয়ের মানুষ দের মূর্খতার সুযোগ নিয়ে কড়া সুদে টাকা প্রদান করেন নিম্ন আয়ের মানুষ দের এবং তা পরিশোধ না করতে পারলে তাদের উপর চলে নির্যাতন এই সুদ ব্যাবসায়ী অধিকাংশ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মী। গলিতে রয়েছে তৃতীয় লিঙ্গের একদল সদস্যদের যারা সুদ ব্যাবসা সহ দেহ ব্যবসায়ীদের সাথেও সম্পৃক্ত।গলিতে রয়েছে বিভিন্ন মাদক ব্যবসায়ী যারা মাদক সেবন থেকে শুরু করে চোরাচালান এর সাথেও সম্পৃক্ত। রয়েছে দেহ ব্যবসায়ীদের আনাগোনা।

গলিতে কিশোর সন্ত্রাস, ছিনতাইকারী,চোর বাটপার দিয়ে ভরা যারা ঐ গলিতে বসবাস করে। ঐ গলিতে বসবাস করাতে ঐ গলির বাসিন্দারা ঐ সব চোর, ছিনতাইকারীদের হাত থেকে কিছুটা রক্ষাপায়। কিন্তু তারা ছিনতাই করে বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ করে হাতিরঝিল, মগবাজার। এক কথায় এমন কোন অবৈধ এবং অসামাজিক কার্যকলাপ নেই যা এই গলিতে হয় না।

হাত বাড়ালেই মিলছে মাদক দ্রব্য গলিতে থাকা বিভিন্ন ঔষধ এর দোকান গুলোতেও বিক্রি করা হয় প্রেসক্রিপশন ছাড়া ঘুমের ঔষধ ও নানা ঔষধ যা নেশা করার জন্য মাদক দ্রব্য হিসেবে কিনে থাকে বিভিন্ন মাদক সেবিরা। রাত যত গভীর হয় রিক্সার গ্যারেজ গুলোতে বসে মাদক,জুয়া, অবৈধ অসামাজিক কার্যকলাপ এর আসর। এত কিছু শোনার পর মনে প্রশ্ন জাগতে পারে তাহলে প্রশাসন কি করছে তাদের কি চোখ নেই!!। আসলে বিষয়টি হচ্ছে এখানে রক্ষক যখন ভক্ষক।

থানার পুলিশ সদস্যরা এই সম্পর্কে অবহিত থাকলেও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ সম্পর্কে একদম অজ্ঞাত কারন পুলিশ সদস্যরা মিলে এই সব অবৈধ এবং অসামাজিক কার্যকলাপ এর খবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে পৌঁছাতে দেয় না সাথে রয়েছে রাজনৈতিক দলের কিছু নেতাকর্মী।

পুলিশ সদস্যরা ও রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা মিলে নানা কৌশলে এইসব কার্যকলাপ পরিচালনা করতে সাহায্য করে। আর তাদের চামচামি করা লোকজন ঐ সব হয়রানি থেকে বেঁচে যায় কিন্তু সাধারণ দোকানি, কিছু বাসিন্দা, নিম্ন আয়ের মানুষ অসহায় হয়ে পড়ে যায় তাদের প্যাচে।

মন্তব্যসমূহ (০)


Lost Password