ঠাকুরগাঁওয়ে আলুর বাম্পার ফলন হলেও রাখার জায়গা নেই

ঠাকুরগাঁওয়ে আলুর বাম্পার ফলন হলেও রাখার জায়গা নেই

ঠাকুরগাঁওয়ের এ বছর লক্ষমাত্রার থেকে বেশি আলু উৎপাদন হওয়ায় বিক্রি ও সংরক্ষণ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা। এ অবস্থায় জেলার হিমাগারে আলু সংরক্ষণ করতে না পারলে মোটা অংকের লোকসান গুনতে হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সমস্যা কাটিয়ে উঠতে আলু সংরক্ষণে নতুন হিমাগার স্থাপন ও বিদেশে রপ্তানিসহ স্থানীয় বাজার মূল্য বৃদ্ধির দাবি কৃষকদের।

আলু চাষ আরো সম্প্রসারণে একই পরামর্শ দিচ্ছেন জেলা কৃষি বিভাগ । ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা শাহি, রাহবার ও এসবি হিমাগারের বাইরে প্রায় এক কিলোমিটার জুড়ে বস্তা ভর্তি আলুর গাড়ির দীর্ঘ সারি। জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষকেরা এসেছেন হিমাগারে আলু সংরক্ষণের জন্য। কেউ কেউ দুই দিন থেকেও অপেক্ষা করছেন হিমাগারে বাইরের সড়কে। একই অবস্থা জেলার অন্য ১৬টি হিমাগারের।

জায়গা সংকুলান না হওয়ায় এরই মধ্যে বেশ কিছু হিমাগার কৃষকদের কাছ থেকে আলু নেয়া বন্ধ করে দিয়েছে। সদর উপজেলা আকচা ইউনিয়নের আলু চাষি বাপ্পি হাসান অভিযোগ করে বলেন, তিনি প্রায় ১২বিঘা জমিতে আলু আবাদ করেছেন। বর্তমানে ক্ষেত থেকে আলু উঠাচ্ছেন তিনি। কিন্তু একদিকে বাজারে আলুর দাম নেই অন্যদিকে আলু সংরক্ষণের ব্যাবস্থাও নেই। এ অবস্থায় উৎপাদিত আলু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তারা।

একই উপজেলার ভাওলারহাট গ্রামের কৃষক ইয়াসিন আলী বলেন, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং নিয়মিত পরিচর্যার ফলে ফলনও হয়েছে অনেক বেশি। তবে বাজারে আলুর দাম না থাকায় ভালো ফলন হয়েও তেমন লাভ হচ্ছেনা। প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে ব্যায় হয়েছে ১০ থেকে ১২ টাকা। কিন্তু বর্তমানে বাজারে কেজি প্রতি আলু পাইকারে বিক্রি করতে হচ্ছে ৯ থেকে ১০ টাকা কেজি দরে। এতে প্রতি কেজি আলুতে ১থেকে ২টাকা লোকসান গুণতে হচ্ছে।

শাহী হিমাগার ম্যানেজার ফজলুর রহমান জানান, জেলার অন্য হিমাগারে আলু নেয়া বন্ধ করে দিয়েছে। কিন্তু তারা এখনো কৃষকদের কাছ থেকে আলু নিচ্ছেন। তবে হিমাগারের জায়গা পূরণ হয়ে গেলে এখানেও আলু নেয়া বন্ধ করে দেয়া হবে। ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক আবু হোসেন জানান, ঠাকুরগাঁও জেলার মাটি তুলনামূলক উঁচু ও আলু উৎপাদনের জন্য উপযুক্ত।

ঠাকুরগাঁও জেলায় ১৬টি হিমাগারের আলু সংরক্ষণের ধারণক্ষমতা মাত্র ১লাখ ৪০হাজার মেট্রিক টন। এবছর আলু উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে সাড়ে ৭ লাখ মেট্রিক টন। চলতি বছর ঠাকুরগাঁওয়ে ২৬ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও আলুর চাষ হয়েছে ৩০ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি।

মন্তব্যসমূহ (০)


Lost Password