যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা-র আর্টেমিস ২ নভোযানের চার নভোচারী ১০ দিনের সফল অভিযান শেষে নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরে এসেছেন।
গত ১০ এপ্রিল স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৫টার দিকে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের দক্ষিণ উপকূলে নাসার ওরিয়ন ক্যাপসুল অবতরণ করে। পরে উদ্ধারকারী দলের সহায়তায় ক্যাপসুল থেকে বের হন নভোচারীরা। এর আগে ১ এপ্রিল ফ্লোরিডা-র কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে চাঁদের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে এই মিশন। অভিযানে অংশ নেন রেইড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কোচ এবং জেরেমি হ্যানসেন।
নাসা জানিয়েছে, মিশন চলাকালে আর্টেমিস ২ পৃথিবীর কক্ষপথ প্রদক্ষিণসহ মোট প্রায় ১১ লাখ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেছে এবং চাঁদের কাছ দিয়ে ‘ফ্লাইবাই’ সম্পন্ন করেছে। এই পদ্ধতিতে মহাকাশযান কোনো গ্রহ বা বস্তুর খুব কাছ দিয়ে গেলেও তার মহাকর্ষে আবদ্ধ হয় না। পৃথিবীতে ফেরার সময় সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মুহূর্ত ছিল বায়ুমণ্ডলে পুনঃপ্রবেশ। অবতরণের আগে প্রায় ১৩ মিনিট সময় লাগে এবং এ সময় ক্যাপসুলের বাইরের তাপমাত্রা প্রায় ২ হাজার ৭০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়। তীব্র ঘর্ষণে ক্যাপসুলটি অগ্নিগোলকের মতো হয়ে ওঠে এবং সাময়িকভাবে রেডিও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তবে ক্যাপসুলের ভেতরে নভোচারীরা ছিলেন সম্পূর্ণ নিরাপদ। অবতরণের পর কিছু সময় ঠান্ডা হওয়ার অপেক্ষা করে উদ্ধারকারী দল তাদের বের করে আনে। এ কাজে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীও সহায়তা করে।
নাসা জানায়, নভোচারীরা সুস্থ আছেন এবং শুক্রবার রাত তারা নৌবাহিনীর জাহাজে কাটান। শনিবার তারা হিউস্টোন-এ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মিলিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই মিশনটি নানা কারণে ঐতিহাসিক।
১৯৭০ সালের অ্যাপোলো ১৩-এর রেকর্ড ভেঙে আর্টেমিস ২ আরও বেশি দূরত্ব অতিক্রম করেছে। পাশাপাশি নাসার চন্দ্রাভিযানে প্রথমবারের মতো একজন নারী নভোচারী (ক্রিস্টিনা কোচ) এবং একজন বিদেশি কৃষ্ণাঙ্গ নভোচারী (জেরেমি হ্যানসেন) অংশ নেন। উল্লেখ্য, নাসা ১৯৬৯ সালে অ্যাপোলো ১১-এর মাধ্যমে প্রথম মানবকে চাঁদে পাঠায়, যেখানে অবতরণ করেন নিল আর্মস্ট্রং ও বাজ অলড্রিন।
নতুন করে ২০২৮ সালের মধ্যে আবারও চাঁদে মানুষ পাঠানোর লক্ষ্য নিয়েছে সংস্থাটি, যার প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ ধাপ এই আর্টেমিস ২ মিশন।
মন্তব্যসমূহ (০) কমেন্ট করতে ক্লিক করুন